এমসিকিউ টেস্ট
লাইব্রেরি / আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

International Affairs

বৈশ্বিক ইতিহাস

297 প্রশ্ন

41. যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় -

a) ক) ১৮৬০ সালে
b) খ) ১৮৬১ সালে
c) গ) ১৮৬২ সালে
d) ঘ) ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা:

উত্তর: ১৮৬১। দাস প্রথাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহ যুদ্ধ - ১৮৬১-১৮৬৫ সাল পর্যন্ত।

42. মার্শাল প্ল্যানের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল-

a) পশ্চিম ইউরােপের অর্থনীতি পুনর্গঠন করা
b) পশ্চিম ইউরােপে রাশিয়ার প্রভাব রুখে দেওয়া
c) পশ্চিম ইউরােপের পুঁজিবাদী আদর্শ ধরে রাখা
d) পশ্চিম ইউরোপে মার্কিন কর্তৃত্ব পাকাপােক্ত করা
ব্যাখ্যা:

উত্তর: পশ্চিম ইউরোপে মার্কিন কর্তৃত্ব পাকাপােক্ত করা। মার্শাল প্ল্যান (Marshal Plan) - ঘোষণা: ১৯৪৭ সালের ৫ জুন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় | ঘোষণাকারী: তৎকালীন মার্কিন সেক্রেটারি অব দ্য স্টেট (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) জর্জ সি মার্শাল। আইনসভায় অনুমোদন: ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল | বিষয়বস্তু: ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ২৬% পাবে যুক্তরাজ্য।

43. লীগ অব নেশনস স্থাপনে কে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?

a) ক. প্রেসিডেন্ট উইলসন
b) খ. প্রেসিডেন্স রুজভেল্ট
c) গ. জেনারেল স্মার্টস
d) ঘ. উইন্সটন চার্চিল।
ব্যাখ্যা: উত্তর: প্রেসিডেন্ট উইলসন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালের ১০ই জানুয়ারি বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লীগ অব নেশনস প্রতিষ্ঠিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের ১৪ দফা শান্তি প্রস্তাবের চতুর্দশ দফায় বলেছিলেন যে, সব জাতির প্রতি ন্যায়বিচার এবং সব জাতির স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়তে হবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিস শান্তি সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট উইলসনের শান্তি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা বা লীগের গঠনতন্ত্র রচনার জন্য ১৯ সদস্যের একটি কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ কমিটি জাতিসমূহের একটি লীগ অব নেশনস গঠনের জন্য একটি খসড়া গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এ খসড়ার নাম ছিল লীগ কভেন্যান্ট। প্যারিসের সম্মেলনে কতিপয় বাদ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এ খসড়াটি অনুমোদিত হয়। এরপর ভার্সাই সন্ধির প্রথম খণ্ডে এ খসড়াটি গৃহীত হলে লীগ অব নেশনস বা জাতিসংঘ গঠিত হয়।

44. বেলফোর ঘোষণা কী?

a) ক. মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি রাষ্ট্রের ঘোষণা
b) খ. আরব ও ইহুদিদের মধ্যে শান্তি স্থাপনের ঘোষণা
c) গ.মধ্যপ্রাচ্যে আরব সংহতি রক্ষার ঘোষণা
d) ঘ. আরব ও ইহুদিদের সংঘর্ষের ঘোষণা
ব্যাখ্যা: উত্তর: মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদি রাষ্ট্রের ঘোষণা।

45. ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি সম্বলিত বেলফোর ঘোষণা কখন দেয়া হয়েছিল?

a) 1914
b) 1917
c) 1939
d) 1948
ব্যাখ্যা: উত্তর: ১৯১৭। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাথে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সম্পর্ক রয়েছে। এ বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বৃটেনের সমরব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে গ্লিসারলের অভাবে। বৃটিশ সরকার তখন গ্লিসারলের বিকল্প আবিষ্কারের জন্য বিশ্বের বিজ্ঞানীদের কাছে আহ্বান জানায়। এই আহ্বানে সারা দিয়ে ইহুদি বায়োকেমিস্ট ড. চিম ওয়াইজম্যান অ্যাসিটোন আবিষ্কার করে বৃটেনের সমরব্যবস্থাকে রক্ষা করেন। এর প্রতিদান স্বরূপ ইহুদি নেতা লর্ড রথচাইল্ডের কাছে বৃটিশ পররাষ্ট্র সচিব আর্থার জেমস বেলফোর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর একটি চিঠি দিয়ে জানায় যে, ইহুদিদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বৃটেন। এই চিঠিকেই বলা হয়- বেলফোর ঘোষণা। যার লক্ষ্য ছিলো- ইহুদিদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গড়ে তোলা ।

46. মহামন্দা কোন দেশের সাথে সম্পর্কিত?

a) USA
b) UK
c) France
d) Japan
ব্যাখ্যা: উত্তর: USA. আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে। যার সময়কাল ১৯২৯ থেকে ১৯৩৯ সাল। একে মহামন্দা হিসেবে অভিহিত করা হয়। গত ২০০ বছরে মাঝে মাঝেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিংবা অঞ্চলে মন্দা হানা দিয়েছে। আর বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের মন্দাকেই মহামন্দা নামে অভিহিত করা হয়। কারণ আর কোনো মন্দা বিশ্বের কোনো প্রান্তে এত দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়নি।

47. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তিতে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-

a) সেভার্স চুক্তি
b) ডেটন চুক্তি
c) ভার্সাই চুক্তি
d) প্যারিস চুক্তি
ব্যাখ্যা: উত্তর: ভার্সাই চুক্তি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর যুদ্ধের মিত্রশক্তি ও তৎসংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো এবং জার্মানির মধ্যে সম্পাদিত হয় ভার্সাই চুক্তি। ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীর ভার্সাই প্রাসাদের ‘মিরর হল’-এ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯১৯ সালের বসন্তে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে চুক্তির খসড়া করা হয়। খসড়ার মূল নকশা করেন ব্রিটেনের ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের জর্জেস ক্ল্যামেনকু, যুক্তরাষ্ট্রের উড্রো উইলসন এবং ইতালির ভিটোরিও অরল্যান্ডো। এ চুক্তির মাধ্যমে চীন, প্রশান্ত মহাসাগর এবং আফ্রিকার সবগুলো জার্মান কলোনি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান এবং অন্যান্য মিত্রশক্তির কুক্ষিগত হয়। জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহে সংঘটিত সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানিকে দায়ী করা হয়।

48. ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?

a) 1928
b) 1945
c) 1962
d) 1919
ব্যাখ্যা: উত্তর: ১৯১৯। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপর যুদ্ধের মিত্রশক্তি ও তৎসংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো এবং জার্মানির মধ্যে সম্পাদিত হয় ভার্সাই চুক্তি। ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীর ভার্সাই প্রাসাদের ‘মিরর হল’-এ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯১৯ সালের বসন্তে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে চুক্তির খসড়া করা হয়। খসড়ার মূল নকশা করেন ব্রিটেনের ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের জর্জেস ক্ল্যামেনকু, যুক্তরাষ্ট্রের উড্রো উইলসন এবং ইতালির ভিটোরিও অরল্যান্ডো। এ চুক্তির মাধ্যমে চীন, প্রশান্ত মহাসাগর এবং আফ্রিকার সবগুলো জার্মান কলোনি ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান এবং অন্যান্য মিত্রশক্তির কুক্ষিগত হয়। জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং মিত্রশক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশসমূহে সংঘটিত সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতির জন্য জার্মানিকে দায়ী করা হয়।

49. মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন বিখ্যাত হয়েছিলেন কেন?

a) স্ট্যাচু অব লিবার্টি বক্তৃতা
b) ১৪ দফা ঘোষণা
c) অ- হস্তক্ষেপ তত্ত্ব
d) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা: উত্তর: ১৪ দফা ঘোষণা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন উড্রো উইলসন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর শান্তি পরিকল্পনা ঘােষণা করেন । এই ঘােষণায় তিনি চৌদ্দটি শর্ত দেন। এগুলি উইলসনের চৌদ্দ দফা দাবি নামে পরিচিত । উইলসন ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কংগ্রেসে যে চৌদ্দটি দাবি জানান সেগুলি ছিল এরকম 一 1.আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের মধ্যে কূটনৈতিক গােপন চুক্তির বদলে দেশগুলিকে খােলাখুলি শান্তি আলােচনা করতে হবে । 2. মহাসাগরে নিরপেক্ষ দেশগুলির অবাধ জাহাজ চলাচলের অধিকার থাকবে। 3. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিটি দেশের অবাধ অধিকার স্বীকৃতি পাবে । 4. কোনাে দেশই অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অতিরিক্ত সামরিক শক্তি বজায় রাখবে না । 5. উপনিবেশগুলির ওপর বিভিন্ন দেশের দাবি নিরপেক্ষভাবে বিচার করতে হবে । 6. রাশিয়াকে তার অধিকৃত অঞ্চলগুলি ফিরিয়ে দিতে হবে এবং সেখান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার করতে হবে । 7. বেলজিয়াম থেকে সেনা সরিয়ে নিয়ে তাকে স্বাধীনতা প্রদান করতে হবে । 8. ফ্রান্স থেকে জার্মান সৈন্যবাহিনী সরিয়ে নিতে হবে এবং তাকে আলসাস – লােরেন অঞ্চল ফিরিয়ে দিতে হবে । 9. জাতিগত ভিত্তিতে ইতালির রাজ্য সীমা ঠিক করতে হবে । 10. অস্ট্রিয়া – হাঙ্গেরির বিভিন্ন জাতিকে স্বায়ত্ত শাসনের সুযােগ দিতে হবে । 11. বলকান রাজ্যগুলিকে স্বাধীনতা দিতে হবে ও সার্বিয়া অঞ্চলকে সমুদ্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে । 12. তুরস্কের সুলতানের সাম্রাজ্য ভুক্ত জাতিগুলিকে স্বায়ত্ত শাসনের সুযােগ দিতে হবে এবং দার্দানালিস প্রণালী নিরপেক্ষ রাখতে হবে । 13. স্বাধীন ও সার্বভৌম পােল্যান্ড রাষ্ট্র গঠন করা হবে । 14. বিশ্বের সব দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার জন্য এক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে ।

50. মহামন্দা মোকাবিলার জন্য যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউ ডিল ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন?

a) হুভার
b) উইলসন
c) নিক্সন
d) ফ্রাংকলিন রুজভেন্ট
ব্যাখ্যা: উত্তর: ফ্রাংকলিন রুজভেন্ট। ১৯২৯ সাল থেকে শুরু হওয়া মহামন্দা থেকে আমেরিকান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট দ্বারা গৃহীত একাধিক প্রোগ্রাম এবং প্রকল্প হ’ল নিউ ডিল (New Deal)। ১৯৩৩ সালে রুজভেল্ট যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, তখন চলমান মহামন্দা থেকে তিনি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসন, চাকুরি প্রদান এবং ত্রাণ সরবরাহের জন্য দ্রুত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

51. খিলাফতের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়--

a) তুরষ্কে
b) স্পেনে
c) সৌদি আরবে
d) ইরানে
ব্যাখ্যা: উত্তর: তুরষ্কে। তুরস্ক রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন ও খিলাফত বিলুপ্তির ঘোষণা : প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালের ১ নভেম্বর সালতানাত বিলুপ্ত করা হয়। ৩ মার্চ ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে তুর্কি ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে আইন পাসের মাধ্যমে উসমানীয় খিলাফতের বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। এর মাধ্যমে উসমানীয় রাজবংশের প্রায় সাত শ বছরের শাসনের অবসান হয় এবং ইসলাম আগমনের পর প্রথম বার ‘ইসলামী খিলাফত’ ব্যবস্থা প্রাতিষ্ঠানিকতা হারায়।

52. মার্শাল প্লানের মােট বাজেটের আকার ছিল-

a) ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
b) ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
c) ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
d) ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা: উত্তর: ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্শাল প্ল্যান (Marshal Plan) - ঘোষণা: ১৯৪৭ সালের ৫ জুন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় | ঘোষণাকারী: তৎকালীন মার্কিন সেক্রেটারি অব দ্য স্টেট (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) জর্জ সি মার্শাল। আইনসভায় অনুমোদন: ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল | বিষয়বস্তু: ইউরোপের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ১২ বিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা দেন। এর মধ্যে ২৬% পাবে যুক্তরাজ্য।

53. 'গ্রেট ডিপ্রেশান' বলতে কী বোঝায়?

a) দুই মহাযুদ্ধ
b) বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের অস্থিতিশীলতা
c) প্লেগ মহামারি
d) ইউরোপ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা: উত্তর: বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের অস্থিতিশীলতা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, বিজয়ী দেশগুলির মধ্যে আমেরিকার অর্থনীতি ভীষণভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠে। আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এবং সাধারণ জনগণ মনে করতে শুরু করেন যে এই অর্থনৈতিক তীব্রতার দীর্ঘদিন কোন পরিবর্তন হবে না। কিন্তু এই অনুমানকে মিথ্যা প্রমাণিত করে, ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমেরিকার শেয়ার বাজারে (ওয়াল স্ট্রিট) ধস নামে। বাজারের এই অপ্রত্যাশিত পতন দেখে বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে শেয়ার বিক্রি করতে শুরু করেন। শুধু তাই নয়, বাজারের পতন দেখে চিন্তিত হয়ে আমেরিকান জনগণ ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা তুলতে শুরু করেন। ব্যাংকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থ মজুত না থাকার কারণে ১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে ৫৭০০টি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায় এবং ৩৫০০০টি ব্যাংক তাদের কাজকর্ম বন্ধ রাখে। মার্কিন অর্থনীতি ভেঙে পড়ে এবং এর প্রভাব ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশক (১৯২৯ সাল) থেকে শুরু হওয়া মহামন্দা (অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা) থেকে আমেরিকান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট দ্বারা গৃহীত একাধিক প্রোগ্রাম এবং প্রকল্প হ’ল নিউ ডিল (New Deal)। ১৯৩৩ সালে রুজভেল্ট যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন, তখন চলমান মহামন্দা থেকে তিনি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেন।

54. সেভার্স সন্ধি মতে অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে সিরিয়া ও লেবাননের অধিকার লাভ করে কোন দেশ?

a) ক. যুক্তরাষ্ট্র
b) খ. ফ্রান্স
c) গ. যুক্তরাজ্য
d) ঘ ইতালি
ব্যাখ্যা: উত্তর: ফ্রান্স। সেভার্স চুক্তি: ১৯২০ সালে ফ্রান্সের সেভার্স শহরে ১৩টি দেশ মিলে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে অটোমান সাম্রাজ্যকে শাস্তি প্রদান ও তুরস্কের আত্মসমর্পণের জন্য । এই চুক্তিটি সেভার্স চুক্তি নামে পরিচিত। এই চুক্তিতেই বলা হয়, সিরিয়া ও লেবানন ফ্রান্সের অধীনে থাকবে এবং ইরাক ও ফিলিস্তিন বৃটেনের অধীনে থাকবে।

55. উড্রো উইলসনের চৌদ্দ দফায় কোন মনোভাবের পরিচয় ফুটে ওঠে?

a) ক. ফ্যাসিবাদী
b) খ. মার্ক্সবাদী
c) গ. আদর্শবাদী
d) ঘ. বাস্তববাদী
ব্যাখ্যা: উত্তর: আদর্শবাদী।

56. ন্যাটোর বর্তমান মহাসচিব কে?

a) Jens Stoltenberg
b) Lord Ismay
c) Anders Rasmussen
d) Jaap Scheffer
ব্যাখ্যা: উত্তর: Jens Stoltenberg. ন্যাটো: প্রতিষ্ঠা: ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ১২টি। বর্তমান সদস্য: ৩১টি। বর্তমান মহাসচিব: Jens Stoltenberg। সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।

57. Warsaw Pact প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?

a) যুক্তরাজ্যকে প্রতিহত করা
b) বিশ্বে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধি
c) ইউরোপীয় দেশগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা
d) সমাজতন্ত্রের গতি রোধ
ব্যাখ্যা:

উত্তর: বিশ্বে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধি। Warsaw Pact: Warsaw Pact বলতে বোঝায় Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের ৮টি সমাজতান্ত্রিক দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি। উদ্দেশ্য: মূলত, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধিই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য। স্বাক্ষর: ১৪মে, ১৯৫৫। স্বাক্ষরের স্থান: ওয়ারশ, পোল্যান্ড। সদস্য সংখ্যা: ৮টি; সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া। বিলুপ্ত: ১ জুলাই, ১৯৯১।

58. বেলফোর ঘোষণাপত্রে প্রথম অনুমোদন দেয় কোন দেশ?

a) ক. যুক্তরাষ্ট্র
b) খ যুক্তরাজ্য
c) গ. জার্মানি
d) ঘ ফ্রান্স
ব্যাখ্যা: উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র। বেলফোর ঘোষণা ছিল ফিলিস্তিনে ‘ইহুদিদের জন্য একটি জাতীয় আবাস’ প্রতিষ্ঠায় ১৯১৭ সালে যুক্তরাজ্যের করা একটি প্রতিশ্রুতি। তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বেলফোর এক চিঠিতে ব্রিটিশ ইহুদি নেতা লিওনেল ওয়াল্টার রথসচাইল্ডকে এই প্রতিশ্রুতি দেন। ফিলিস্তিন সে সময় অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ এবং সংখ্যালঘু ইহুদি জনগোষ্ঠীর আবাস। ওই এলাকার জনসংখ্যার দিক থেকে তারা ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪-১৯১৮) চলাকালীন ওই ঘোষণা আসে এবং অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে এতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। বেলফোর ঘোষণাপত্রে প্রথম অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

59. জাতিপুঞ্জের সদর দপ্তর ছিল-

a) ক. জেনেভা
b) খ. বার্ন
c) গ. আমস্টারডাম
d) ঘ. ডাবলিন
ব্যাখ্যা: উত্তর: জেনেভা।

60. উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়?

a) ক. ন্যাম
b) খ. ন্যাটো
c) গ. নাফটা
d) ঘ. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা: উত্তর: ন্যাটো। ন্যাটো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল। যা পরবর্তীতে কার্যকর হয় ১৯৪৯ সালের ২৪ আগস্ট। চুক্তি অনুযায়ী, এর অন্তর্ভুক্ত যে কোন দেশের উপর হামলা হলে সেটি সবার হামলা হিসেবেই গণ্য হবে এবং তখন সবাই সহায়তার জন্য এগিয়ে আসবে। ন্যাটো শব্দটিকে সম্প্রসারণ করলে দাঁড়ায়, নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি ওরগানাইজেশন বা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট। এই ন্যাটো গঠিত হয় আটলান্টিক মহাসাগরের দুই পাড়ে অবস্থিত উত্তর আমেরিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা এবং ইউরোপের অধিকাংশ দেশ নিয়ে। ন্যাটো একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী। ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ছিল ১২টি। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ৩১। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মুসলিম দেশ কেবল দুটি, তুরস্ক ও আলবেনিয়া। এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থিত। বর্তমানে ন্যাটোর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরওয়ের রাজনীতিবিদ জেসন স্টলটেনবার্গ। আলবেনিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মন্টিনেগ্রো, নেদারল্যান্ডস, উত্তর মেসিডোনিয়া, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ফিনল্যান্ড।